২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages

চট্টগ্রামে ম্যাক্সকে জরিমানার পর হাসপাতালে সেবা বন্ধ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, হেলথ নিউজ | ৯ জুলাই ২০১৮, ০১:০৭ | আপডেটেড ৯ জুলাই ২০১৮, ০৩:০৭

max-lab-1

অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে চট্টগ্রামের আলোচিত ম্যাক্স হাসপাতালকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ লাখ টাকা জরিমানা করার পর চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলো বন্ধ করে দিয়েছে সেবা; এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

শিশু রাফিদা খান রাইফার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে রোববার নগরীর মেহেদীবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাবের নির্বাহী হাকিমের অভিযানের মধ্যেই জিইসি মোড়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কার্যালয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মালিকরা জরুরি বৈঠকে বসেন।

বৈঠকের পর বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাব ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী খান অনির্দিষ্টকালের জন্য সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

হাসপাতালগুলোতে ভর্তি থাকা রোগীরা এই ঘোষণার আওতায় পড়বেন না বলে তিনি জানালেও তার ফল দেখা যায়নি।

ম্যাক্স হাসপাতালেরই এক রোগীকে চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল ছাড়তে দেখা যায় বিকালে। এছাড়া অন্য বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েও ফিরে আসতে হয় রোগীদের।

বন্দর নগরীর  প্রবর্তক মোড়ের সিএসসিআর ক্লিনিক, ওআর নিজাম রোডের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, রয়্যাল হাসপাতাল, শেভরন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সবগুলোই প্রায় বন্ধ।

বেশ কয়েকজন জানান, তারা নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাননি। করতে পারেননি রোগ নির্ণয়ের কোনো পরীক্ষা।

চিকিৎসা সেবা বন্ধের বিষয়ে জানতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাব ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী খান এবং তাদের কর্মসূচিতে সমর্থনদানকারী বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে বিএমএর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, এই কর্মসূচির সঙ্গে চিকিৎসকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মনে করি আমাদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট। এ ধরনের অনিয়মকারী দুয়েকটা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক।”

বৃহত্তর চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল। এছাড়া নগরীতে দেড়শ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল ও রেলওয়ে হাসপাতাল রয়েছে।

চমেক হাসপাতালের বেড সংখ্যা ১৩১৩টি। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলেন, চট্টগ্রামের মানুষকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তাদের আছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে ১৩৭টি অনুমোদিত ক্লিনিক আছে।

ম্যাক্সে প্রতারণার জাল

অন্য ডায়গনস্টিক সেন্টারে নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করিয়ে এনে নিজেদের নামে রিপোর্ট দেওয়া, বায়োকেমিস্ট ছাড়াই বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাব চালানো, অনুমোদন ছাড়াই ফার্মেসি চালাচ্ছিল ম্যাক্স হাসপাতাল।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারে মিলেছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও সার্জিক্যাল উপকরণ।

র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারোয়ার আলমের সঙ্গে এই অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে ডা. দেওয়ান মাহমুদ মেহেদী হাসানও ছিলেন। তারা ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ডায়গনস্টিক সেন্টারে এপিক হেলথ কেয়ার, ল্যাবএইড, পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টার, ডা. লাল প্যাথ ল্যাব, প্যাথ কেয়ার ল্যাব ও সিগমা ল্যাব লিমিটেডের কয়েকশ রিপোর্ট জব্দ করে।

আদালত জানতে চাইলে ম্যাক্সের ব্যাবস্থাপক রঞ্জন দাশগুপ্ত বলেন, কমিশনের বিনিময়ে অন্য ল্যাব থেকে এসব পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট আনা হয়েছে।

যেসব ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে আনা হয় সেসব সেন্টারের সরকারি অনুমোদন ও সনদ আছে কি না- তাও জানেন না ম্যাক্সের ব্যবস্থাপক রঞ্জন।

সারোয়ার আলম বলেন, “অন্য জায়গার রির্পোট ম্যাক্সের নামে ছাপিয়ে বিলি করা হচ্ছে। এটা তো প্রতারণা। রোগীরা এখানে পরীক্ষা হচ্ছে জেনেই টেস্টগুলো করান।”

অভিযানে থাকা বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসনের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক গুলশান জাহান বলেন, এ হাসপাতালের ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর শেষ হয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ডা. মেহেদী হাসান বলেন, অপারেশন থিয়েটারেও কিছু অনুমোদনহীন ওষুধ, মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল উপকরণ এবং ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট পাওয়া গেছে।

অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে হাকিম সারোয়ার আলম বলেন, “পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে হলে হয়ত ম্যাক্স বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু বন্ধ করাই তো সমাধান নয়। এখানে অনেক কর্মসংস্থান আছে, অনেক বিনিয়োগ আছে। তাদের সংশোধনের জন্য এই সুযোগটা (১৫ দিন) দেওয়া হল। সংশোধন না হলে অবশ্যই ম্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীর নির্দেশ

ম্যাক্স হাসপাতালে শিশু রাফিদা খান রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা এবং গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পর তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

এই তিন চিকিৎসক হলেন-  ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শনিবার দুই চিকিৎসককে বরখাস্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিধান রায় তাদের নিয়োগ করা চিকিৎসক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ঢাকায় সচিবালয়ে এক বৈঠকে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে (বিএমডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন, যে সংস্থাটি চিকিৎসকদের সনদ দিয়ে  থাকে।

দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রাইফা গলায় ব্যথা নিয়ে গত ২৮ জুন বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ২৯ জুন রাতে তার মৃত্যু হয়।

‘ভুল চিকিৎসায়’ তার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করে সাংবাদিকরা অভিযোগ তোলার পর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি এবং চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি হয়।

সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন কমিটি গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের প্রতিবেদন দেয়, যাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান

ম্যাক্স হাসপাতাল নিয়ে ঘটনাপ্রবাহে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিতে চিকিৎসক সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে এক সমাবেশ থেকে।

চেরাগী পাহাড় মোড়ে ‘বিক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ’ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিশু রাফিদা খান রাইফা স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলনও করা হয়।

সমাবেশে পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরীফ চৌহান বলেন, ‘বেআইনি কার্যক্রম’ ঠেকাতে অভিযানের পর স্বাস্থ্য সেবা বন্ধ করে দেওয়া ‘অরাজকতা।

“কতিপয় স্বার্থান্বেষী মানুষের জন্য আপনারা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না,” চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান শরীফ।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ বলেন, “আজ যে মোমের আলো জ্বেলেছি আশা করি সে আলো কতিপয় ব্যবসায়ী চিকিৎসকদের মনের আঁধার দূর করবে। এ আলোতে আপনার দেখতে পাবেন সত্য কী, মানবিকতা কোনটা।”

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, “অভিযানের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। প্রশাসন স্বাস্থ্য খাতের বাণিজ্য ও অসাধু মহলের প্রতি দৃঢ় মনোভাব দেখিয়েছে।”

তিনি বলেন, “যে চিকিৎসক নেতা থানায় গিয়ে ওসিকে হুমকি দিয়েছেন, তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানাই।”

এদিকে স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারি উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করেছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতারা।

রোববার রাতে তাদের এক যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়, “ধর্মঘট ডেকে হঠাৎ করে চট্টগ্রামের সকল বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীদের বের করে দিয়ে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়া অমানবিক এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি এবং ওই ষড়যন্ত্রের অংশ।”

বিবৃতিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতির অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে এ ধরনের ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বিষয়:

নোটিশ: স্বাস্থ্য বিষয়ক এসব সংবাদ ও তথ্য দেওয়ার সাধারণ উদ্দেশ্য পাঠকদের জানানো এবং সচেতন করা। এটা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। সুনির্দিষ্ট কোনো সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

স্বাস্থ্য সেবায় যাত্রা শুরু

আঙুর কেন খাবেন?

ছোট এ রসালো ফলটিতে আছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ ও ভিটামিন। আঙুরে রয়েছে ভিটামিন কে, সি, বি১, বি৬ এবং খনিজ উপাদান ম্যাংগানিজ ও পটাশিয়াম। আঙুর কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা ও হৃদরোগের মতো রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

সব টিপস...

চকলেটে ব্রণ হয়?

এই পরীক্ষাটি চালাতে গবেষকরা একদল ব্যক্তিকে এক মাস ধরে ক্যান্ডি বার খাওয়ায় যাতে চকলেটের পরিমাণ ছিল সাধারণ একটা চকলেটের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। আরেক দলকে খাওয়ানো হয় নকল চকলেট বার। চকলেট খাওয়ানোর আগের ও পরের অবস্থা পরীক্ষা করে কোনো পার্থক্য তারা খুঁজে পাননি। ব্রণের ওপর চকলেট বা এতে থাকা চর্বির কোনো প্রভাব রয়েছে বলেও মনে হয়নি তাদের।

আরও পড়ুন...

  মেনোপজের পর সতর্ক থাকতে হবে যে বিষয়ে

300-250
promo3