Site icon Health News

দুই ক্যান্সার গবেষকের নোবেল জয়

দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ব্যবহার করে প্রাণঘাতী ক্যান্সার মোকাবেলার চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারের স্বীকৃতি পেলেন দুই গবেষক।

চিকিৎসায় এবারের নোবেলজয়ী এই দুই গবেষক হলেন যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক জেমস পি অ্যালিসন এবং জাপানের অধ্যাপক তাসুকু হনজো।

সোমবার নোবেল কমিটি তাদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নামের ঝাঁপি খুলল। এরপর ধারাবাহিকভাবে অন্য ক্ষেত্রে জয়ীদের নাম ঘোষণা হবে।

আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। দুজন বলে চিকিৎসার নোবেল পুরস্কারের অর্থ ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার বা ৮ লাখ ৭০ হাজার ইউরো ভাগাভাগি করে নেবেন অ্যালিসন ও তাসুকু হনজো।

দ্য ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) বলছে, ২০১৮ সালে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যায় যোগ হতে পারেন ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ এবং এতে মারা যেতে পারেন ৯৬ লাখ মানুষ।

বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারের এই ভয়াবহ রূপের মধ্যে দুই বিজ্ঞানীর গবেষণা নতুন আশা দেখাচ্ছে, যা মনোযোগ কেড়েছে নোবেল কমিটিরও।

নোবেল কমিটি বলছে, অধ্যাপক অ্যালিসন ও অধ্যাপক হনজো দেখিয়েছেন, কীভাবে বিকল্প পদ্ধতিতে দেহের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উজ্জীবিত করে ক্যানসার কোষকে আটকে ফেলা যায়। ক্যান্সারের চিকিৎসায় রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন তারা।

এই গবেষকদের এই চিকিৎসা পদ্ধতি ‘ইমিউন চেকপয়েন্ট থেরাপি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। তাদের আবিষ্কার চরম পর্যায়ে থাকা ত্বক ক্যান্সারের চিকিৎসায় চমৎকার ফল দেখিয়েছে।

পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হনজো বলেন, “আমি আমার গবেষণা আরও এগিয়ে নিতে চাই, যাতে এই থেরাপির মাধ্যমে আরও ক্যান্সার রোগীর জীবন বাঁচানো যায়।”

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ইউনিভার্সিটির এমডি অ্যন্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের অধ্যাপক অ্যালিসন বলেন, “যারা ইমিউন চেকপয়েন্ট থেরাপি নিয়ে সেরে উঠেছেন, তাদের জন্য এটা আনন্দের খবর।”

মানবদেহের ইমিউন সিস্টেম বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে সুস্থ রাখে। এই লড়াইয়ের সময় ইমিউন সিস্টেম যেন কখনও কোষের ক্ষতি না করে, সেই ব্যবস্থাও প্রাকৃতিক। কিন্তু কিছু ক্যান্সার এই সুযোগটা নেয় এবং ইমিউন সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে বাড়তে থাকে।

বিবিসি বলছে, যে প্রোটিনের কারণে ইমিউন সিস্টেম নিজের কোষের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকে, সেই প্রোটিনটি গবেষণার মাধ্যমে শনাক্ত করেন অ্যালিসন ও হনজো। তারা ওই প্রোটিনের উৎপাদন বন্ধ করার পদ্ধতি খুঁজে বের করেন, যাতে ইমিউন সিস্টেম টিউমারকে আক্রমণ করে নির্মূল করতে ১৯৯০ এর দশকে তাদের এই গবেষণার পথ ধরে ক্যান্সার চিকিৎসার নতুন ওষুধ তৈরি হয়।

বর্তমানে ত্বকের ক্যান্সার মেলানোমার চিকিৎসায় এই থেরাপি ব্যবহার হলেও ইদানিং ফুসফুসের ক্যান্সারের চিকিৎসাতেও তার প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

Exit mobile version