ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে এক রাতে মারা যাওয়া ছয় শিশুর ময়নাতদন্ত না হলে মামলার বিবাদীপক্ষ ‘লাভবান’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
এ শিশুদের ময়নাতদন্ত না করায় মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে কিনা, এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি বলেন, “ময়নাতদন্ত না হলে মামলার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়। অভিভাবকদের উচিত ময়নাতদন্ত করিয়ে নেওয়া। ময়নাতদন্ত ছাড়া কোনো মামলা হলে বিচার কাজে এর ‘বেনিফিটটা’ আসামি পক্ষ পেয়ে থাকে। এজন্য ময়নাতদন্ত করে ফেলা উচিত।”
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেন। আদ-দ্বীনে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ছাড়াও তিনি সীমান্তে লোকজনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ও সীমান্ত হত্যার বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন।
ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে ওই হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়।
এসি থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়েছিল বলে কথা উঠলেও সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসিতে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তা বলতে পারেনি।
আদ-দ্বীন হাসপাতাল নির্ধারিত বিল্ডিং কোড এবং স্বাস্থ্যসেবা–সংক্রান্ত অবকাঠামোগত মানদণ্ড পুরোপুরি মেনে চলছিল কি না, সেই প্রশ্নও এখন সামনে আসছে।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছিলেন, “ভোরে এই রুমটিতে এসি জটিলতা অথবা যে কোনো কারণেই হোক ওখানের যে পরিবেশ একটি সাফোকেটিভ পরিবেশের মতো আমরা পেয়েছি।
“ওখানে আসলে এসি এমনভাবে ছিল যে, এসিটি বন্ধ করলে ওখানে আর ভেন্টিলেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এরকম একটি পরিস্থিতিতে আমরা ভোরে ৬ জন শিশুকে হারিয়েছি।”
পরে ময়নাতদন্ত না করেই শিশুদের মরদেহ নিয়ে যান অভিভাবকরা।
পরে এক শিশুর বাবা অবহেলার অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি করেছে।
এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যারা অভিভাবক তাদের একটু সচেতন হওয়া দরকার। ময়নাতদন্ত না করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নাও করা যায়। তবে পরে লাশ উত্তোলন করেও ময়নাতদন্ত করা যায়। এটা বাদী পক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে, এটা তাদের কর্তব্য।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং তার টিম গিয়েছিল। আমি যতটুকু শুনেছি ওখানে এয়ারকন্ডিশন বোধহয় চালু ছিল না। সম্ভবত এক বাচ্চার মা বেশি ঠাণ্ডা লাগার কারণে এসি বন্ধ করতে বলেছেন।
“সম্ভবত সময়মত আর এসি চালু করেনি। সাপোকেশনে মারা যেতে পারে বা অন্য কোনো কারণে হতে পারে, এটা তদন্ত হচ্ছে। গ্যাস লিক হতে পারে, তদন্ত হচ্ছে। এটার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

