Site icon Health News

ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে ভাবছে সরকার

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকার মধ্যে এ রোগের টিকা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে ভাবছে সরকার।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট প্যানাসিয়া বায়োটেক ডেঙ্গুর টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য আবেদন করেছে। বাংলাদেশেও ওই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা যায় কি না, তা ভেবে দেখছে সরকার।

দেশে ডেঙ্গুর টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা যায় কি না, সে বিষয়টি নিয়ে ৮ অগাস্ট জাতীয় টিকা সংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির (নাইট্যাগ) সভায় আলোচনা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “ডেঙ্গুর টিকা এখন পর্যন্ত কোথাও তেমন কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। মালয়েশিয়ায় ট্রায়াল দিয়েছিল কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য তারা তা বাতিল করে দিয়েছে।

“প্যানাসিয়ার ট্রায়ালটা ভারতের বাইরে হয় কিনা সেটার ব্যাপারে আমরা কথা বলছি। যদি হয়, তাহলে আমাদের এখানে ট্রায়াল হতে পারে। কিন্তু কোনো কিছু নিয়েই এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”

নাইট্যাগ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বয়স্কদের টিকা এবং ডেঙ্গুর টিকা বাংলাদেশে নিয়ে আসা যায় কিনা – এই দুটি বিষয় নিয়ে গত শুক্রবার এবং শনিবার আলোচনা হয়েছে। সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সরকার থেকেও নাইট্যাগকে এ বিষয়ে অনুমতি দেওয়ার পর তা নিয়ে কাজ করছেন তারা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডেংভেক্সিয়া টিকা ব্যবহার করছে, কিন্তু সেটি ব্যবহার করতে পারবেন এমন ব্যক্তি, যার একবার ডেঙ্গু হয়েছে। তবে জাপানের তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালস কিউডেঙ্গা নামের যে টিকা নিয়ে কাজ করছে, সেটি ‘সম্ভাবনাময়’।

“ডেংভ্যাক্সিয়ার অসুবিধা হল, যাদের একবার ডেঙ্গু হয়েছে, তাদের সেটা দেওয়া যাবে। কিন্তু কিউডেঙ্গার ক্ষেত্রে ডেঙ্গু একবার হয়েছে কি হয়নি সেটা ফ্যাক্টর নয়। সে বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমরা আমাদের ভ্যাকসিনোলজিস্টদের নিয়ে একটা মিটিং ডেকেছি। আমাদের দেশের জন্য সবগুলো বিষয় মাথায় রেখে, একটা শর্টটার্ম ট্রায়াল করব। যদি সেইফটি, এফিকেসি পাওয়া যায়, আমরা শুরু করতে পারি।”

ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, সব টিকার নেতিবাচক ও ইতিবাচক দিকগুলো তারা দেখবেন। পরিকল্পনা ও গবেষণাও চলবে।

“যে কোনো দেশে একটা টিকা প্রয়োগ করার আগে অনেক রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। কারণ পপুলেশন গ্রুপ, অর্গানিজমের প্যাটার্ন, টাইপ একেক দেশে একেক রকম হয়। আমরা বিষয়গুলো মাথায় রেখে যাব। আমরা শিগগিরই এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে যাব।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ডেংভেক্সিয়া এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২০টি দেশে অনুমোদন পেয়েছে। এই টিকা ৯ থেকে ৪৫ বছর বয়সীরা ব্যবহার করতে পারেন।

জাপানের তৈরি কিউডেঙ্গা টিকার অনুমোদন দিয়েছেন ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি। সংস্থাটি বলছে, কিউডেঙ্গা ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এই টিকা বয়স্ক, কিশোর-কিশোরী এবং চার বছরের বেশি বয়সীদের দেওয়া যাবে।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, মৃত্যু হয়েছে ২৫১ জনের।

বাংলাদেশে এর আগে ২০১৯ সাল এবং ২০২২ সালে এর চেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আর ২০২২ সালে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

Exit mobile version