রংপুর শহরে বেসরকারি হাসপাতালে অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ আসার পর তা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রংপুরের সিভিল সার্জন জাকিরুল ইসলাম এই তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রবি শংকর মণ্ডলকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার শহরের সাগরপাড়ায় ‘রংপুর আধুনিক হাসপাতালে’ অস্ত্রোপচারের পর নাসিমা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
মৃত নাসিমা বেগম কাউনিয়া উপজেলার বেইলি ব্রিজ এলাকার মনু মিয়ার স্ত্রী। মনু ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
নাসিমার মামি ইছারন বেগম জানান, টিউমার অপারেশনের জন্য নাসিমাকে বৃহস্পতিবার বিকালে এই হাসপাতালে ভর্তি করান তারা। ওই রাতে তার অস্ত্রোপচার হয়।
শনিবার দুপুর ২টায় দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পর নাসিমার শরীরে খিঁচুনি শুরু হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সময় হাসপাতালের লোকজনকে ডাকাডাকি করলেও কেউ আসেনি। বিকাল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নাসিমার মৃত্যুর পর ওই হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব পালিয়ে যান। পুলিশ গিয়েও তাদের পায়নি।
রংপুর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান কায়েল জানান, রংপুর আধুনিক হাসপাতালের কোনো সনদ নেই। সমিতির তালিকাভুক্তও নয় প্রতিষ্ঠানটি।
রংপুর আধুনিক হাসপাতালের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই বলে স্বীকার করেন সিভিল সার্জন জাকিরুল ইসলাম।
২৩ ঘণ্টা হাসপাতালে পড়ে থাকার পর রোববার বিকালে নাসিমার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার স্বামী মনু মিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মনু মিয়া বলেন, স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির বিরুদ্ধে মামলা করবেন তিনি।
কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মৃতের স্বজনরা মামলা করলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

